২৫ বছর ধরে পড়ছেন দ্বিতীয় শ্রেণিতে, থাকেন কবরস্থানে-দোহারের সংবাদ – দোহারের সংবাদ
  1. admin@doharersongbad.com : admin :
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দোহার নবাবগঞ্জের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে সালমান এফ রহমান নবাবগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাটায় ৪ জনের কারাদন্ড-দোহারের সংবাদ ভূমধ্যসাগরে নৌকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের অধিকাংশই বাংলাদেশি-দোহারের সংবাদ মদ পানে কি ৪০ দিন শরীর নাপাক থাকে? দোহারের সংবাদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় টিউলিপ চাঁষ ভিড় জমাচ্ছে দেখতে আসা দর্শনার্থীরা-দোহারের সংবাদ সাভারের কলমায় জুটের গোডাউনে আগুন-দোহারের সংবাদ আমিন আমিন ধ্বনিতে সমাপ্ত হ‌লো ইজ‌তেমার দ্বিতীয় প‌র্বের-দোহারের সংবাদ চলে গেলেন দর্শক নন্দিত অভিনেতা আহমেদ রুবেল-দোহারের সংবাদ দোহারে পদ্মায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় দায়ে ৩জনের কারাদণ্ড ও ২লক্ষ টাকা জরিমানা-দোহারের সংবাদ বৃষ্টি হতে পারে ৪ বিভাগে-দোহারের সংবাদ

২৫ বছর ধরে পড়ছেন দ্বিতীয় শ্রেণিতে, থাকেন কবরস্থানে-দোহারের সংবাদ

দোহারের সংবাদ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ১৪০ বার পঠিত

কুড়িগ্রামে দেখা মিলেছে গল্পের সেই আদু ভাইয়ের। তবে তার নাম মো. দুলু মিয়া (৩৫)। তিনি ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের দিয়াডাঙা গ্রামের বাসিন্দা। তবে তিনি থাকেন ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের তালুক মশাল গ্রামের একটি কবরস্থানে। অন্যের বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করলেও গাছপালা বেষ্টিত কবরস্থানই তার পছন্দের জায়গা। রাতে সেখানেই ঘুমান, সকাল হলে পড়াশোনা করতে ছোটেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

জানা গেছে, মা মারা যাওয়ার পর দুলু মিয়া ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন ওই কবরস্থানে। মাঝে মধ্যে স্বজনরা তাকে বাসায় নিয়ে গেলেও কবরস্থানে নিজের তৈরি কাঠের বাক্স, একটি বালিশ আর বেড়াবিহীন টিনের চালই তার পছন্দ। পড়াশোনায় বেশ আগ্রহ। হাতের লেখাও ভালো। তবে পড়াশোনায় উন্নতি নেই তার। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে আছেন দুলু মিয়া।দুলু মিয়া বছরের পর বছর লেখাপড়া করতে ছুটে চলেছেন বিদ্যালয়ে। তবে এক স্কুলে পড়াশোনা করে মন ভরে না তার। এলাকা ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী কিংবা দূরে ৩-৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিবন্ধিত ছাত্র তিনি। তবে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে সবকটি স্কুলে একই (দ্বিতীয়) শ্রেণিতে পড়েন তিনি।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন দুলু মিয়া। তাকে নিয়ে নানান ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। তার বাবা-মা ও স্বজন নেই বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হলেও আদতে সেগুলো সবই গুজব।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুলু মিয়ার মা-বাবা দু’জনই ছিলেন। তারা মারা গেছেন। তার বাবার নাম মৃত মালু মিয়া। দুলু মিয়ার দুই ভাই ও দুই বোন রয়েছেন। দিয়াডাঙা গ্রামে ছিল তার স্থায়ী বাস। বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পদ ছিল ৪ বিঘা জমি আর বসতবাড়ি। বর্তমানে সেখানে বসবাস করেন তার ছোট ভাই বেলাল মিয়া। দু’বোনের বিয়ে হয়েছে।দুলু মিয়া বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী হওয়ায় বাবা মারা যাওয়ার আগেই জমি লিখে নিয়েছেন বড় ভাই। মা মারা যাওয়ার পর হঠাৎ তিনি ঘরছাড়া হন। আশ্রয় নেন তালুক মসাল পাড়া গ্রামের রঞ্জু মিয়ার পারিবারিক একটি কবরস্থানে। ঝড়, বৃষ্টি, শীত কিংবা গরমে ওই কবরস্থানে আলোবিহীন জঙ্গলে বসবাস করেন তিনি। তার সম্বল বলতে নিজের তৈরি বেড়াবিহীন চার টিনের চাল, স্কুলে যাওয়ার জন্য নিজের তৈরি ছোট তিন চাকার গাড়ি ও একটি কাঠের বাক্স। ওই বাক্সে কাপড়, বই-খাতা ও কলম তালাবদ্ধ করে রেখে বাক্সের ওপর ঘুমান তিনি। স্কুলে যাওয়ার জন্য নিজেই তৈরি করেছেন টায়ারবিহীন ভ্যান আকৃতির প্রাইভেট গাড়ি।দুলু মিয়ার ভাই বেলাল মিয়া বলেন, দুলু ভাই কানে কম শোনেন। তার বুদ্ধি কম, তবে ছোটকাল থেকে পড়াশোনা করার আগ্রহ খুব বেশি। বাড়িতে না থেকে তিনি কবরস্থানে থাকেন, আমরা কী করবো। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারলে হয়তো তিনি ভালো হতেন।পাথরডুবি ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সবুর বলেন, আমার ইউনিয়নের ৪নং তালুক মসাল পাড়া গ্রামে থাকেন দুলু মিয়া। তিনি প্রতিদিনই স্কুলে যান। তার নামে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা পেলে তার বসবাসের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা যায় কিনা দেখবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা