কাঞ্চনজঙ্ঘায় পর্যটকের ভীড় মিলছে না হোটেল রুম – দোহারের সংবাদ
  1. admin@doharersongbad.com : admin :
সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

কাঞ্চনজঙ্ঘায় পর্যটকের ভীড় মিলছে না হোটেল রুম

দোহারের সংবাদ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২২
  • ২৬ বার পঠিত

নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা পঞ্চগড় জেলা থেকে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর তৃত্বীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা।চোখ জুড়ানো কাঞ্চনজঙ্ঘা ভ্রমণপিপাসুদের দুহাত বাড়িয়ে ডাকছে। কুয়াশা বিহীন মেঘমুক্ত নীলাকাশে অক্টোবরের শেষ সময় থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। গত কদিন ধরে ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াবী রুপলাবন্য।

কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় মনোমুগ্ধকর শোভা উপভোগ করতে হাজারো ভ্রমন পিপাসু প্রকৃতিপেমী পর্যটকরা আসছেন পঞ্চগড়ে। হিমালয়ের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার রুপ দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকরা। তবে এসব পর্যটকরা আবাসিক সংকটে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। হোটেলগুলোতে রুম না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে তাঁবু গেড়ে রাত্রি যাপন করছেন তারা।

তেঁতুলিয়ায় উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের ব্রহ্মতোল গ্রামে আম-লিচু বাগানে তাঁবু টাঙিয়ে রাত যাপন করতে দেখা যায়। তারা জানান, কাঞ্চনজঙ্ঘাসহ এ অঞ্চলের দর্শনীয়স্থান সমূহ আমাদের খুব মুগ্ধ করেছে। তবে দুঃখের বিষয় এখানে এসে হোটেলগুলোতে রুম পাইনি। আর তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের এক নিরব এলাকায় তাঁবুতে রাত কাটাতে হয়েছে।

পর্যটকরা এসে যে শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘাই দেখছেন তা কিন্তু নয়, তারা তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান যেমন- সমতলের চা বাগান, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, স্থলবন্দর-ইমিগ্রেশন, ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত প্রবাহিত মহানন্দা নদীতে দল বেঁধে শ্রমিকদের পাথর উত্তোলন, পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্ত, নদীর কিনারে ডাক বাংলোয় দাঁড়িয়ে বা বসে উত্তর প্রান্তের পাহাড়ের ঢালের ঘর-বাড়ি, সাপের মতো আঁকাবাঁকা সড়কে গাড়ি চলাচল, পুরার্কীতিসহ নানা দর্শনীয় স্থান উপভোগ করছেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর হোটেলগুলোতে রুম না পেয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে দূর দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তেঁতুলিয়ায় বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। তবে পর্যটন সময়ে এসব হোটেলে রুম পাওয়া যায় না। ফলে আশেপাশের বাসা বাড়িতে এবং খোলা আকাশের নিচে তাবু টাঙিয়ে রাত কাটাতে হয়েছে ভ্রমণ পিপাসুদের।

আবাসিক হোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অক্টোবর মাস থেকেই আবাসিক হোটেলগুলো বুকিং দিচ্ছেন পর্যটকরা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসার খবর দিয়ে ট্যুরিস্টরা হোটেল বুকিং দিয়ে রাখছেন। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে প্রচুর পর্যটক সমাগম হয়। যার কারণে কেউ কেউ বুকিং দিতে পারছেন না। যারা হোটেল বুকিং ছাড়া আসছেন, তাদের রাত্রি যাপনে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।

পঞ্চগড় ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পঞ্চগড়ে পর্যটনের সময়। হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটছে। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছি। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আমাদের টহল জোরদার করেছি।’

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘হেমন্ত ঋতুতে কাছ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর রূপ উপভোগ করতে পর্যটকরা আসেন। আগতদের কথা চিন্তা করে আমরা ডাকবাংলোয় থাকার ব্যবস্থা করেছি। ওয়াচটাওয়ার, ওয়াকওয়েসহ বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দিত স্থাপনা নির্মাণ করেছি। আবাসন সংকট রয়েছে এটি সত্যি। তবে দিন দিন আবাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক নতুন দুইটি রেস্টহাউজ নির্মাণ করা হয়েছে।’ছবি সংগৃহীত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা